ads

ad

1st Sem, C-2, Nitisatakam, Broad Q. 2 (in Bengali)


২.  নীতিশতকস্য কাব্যমূল্যং সম্যগ্ বিচার্যতাম্।                                                                  অথবা,  ভর্তৃহরেঃ রচনশৈলী-বিষয়ে নাতিদীর্ঘঃ কশ্চিত্ প্রবন্ধঃ লিখ্যতাম্।                                                 
উত্তরম্-- সংস্কৃত  শতক- কাব্য রচয়িতাদের মধ্যে ভর্তৃহরি অন্যতম প্রধান। তিনি তিনটি শতক কাব্য রচনা করেছিলেন। তার মধ্যে নীতিশতক অন্যতম। অন্য দুটি হল--  শৃঙ্গারশতক     বৈরাগ্যশতক । বহু বিচিত্র অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি যে গভীর জীবনবোধ অর্জন করেছিলেন, তারই বাঙ্ময় প্রকাশ ঘটেছে তাঁর কাব্যে।                                                                                           ভর্তৃহরির নীতিশতক মুক্তক জাতীয় খণ্ডকাব্য। যেখানে প্রতিটি শ্লোকই স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং  রসনিষ্পত্তিতে  অন্য শ্লোকের অপেক্ষা করে না, তাকে মুক্তককাব্য বলে। অগ্নিপুরাণে বলা হয়েছে—  
‘মুক্তকঃ শ্লোক এবৈকশ্চমৎকারক্ষ্মঃ সতাম্।   নীতিশতকের প্রতিটি শ্লোকই  স্বতন্ত্র কাব্য। ভর্তৃহরি সহজ, সরল  ভাব ও  ভাষায় মানবজীবনের নিগূঢ় রহস্যের উন্মোচন করে কাব্যে পরিবেশন করেছেন। তিনি সদ্গুণ অনুশীলনের কথা বলেছেন।  তিনি   অজ্ঞদের স্বভাব,  বিদ্যা- মাহাত্ম্য, বিদ্বানের  প্রশংসা, বিদ্যার দ্বারা সব কিছু লাভ, চাটুকারের স্বভাব, বিবেকহীন পুরুষের পতন, ধন, ভাগ্য, মহাপুরুষ ও সৎসঙ্গের প্রশংসা, আত্মসম্মান বজায় রাখা, মানবকল্যাণের উপযোগী পথের বর্ণনা প্রভৃতি অত্যন্ত নিপুণতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।  এছাড়া স্বজনদের প্রতি উদারতা, পরিজনদের প্রতি দয়া, দুষ্টলোকের প্রতি সমুচিত ব্যবহার, বিদ্বানের সঙ্গে নম্রভাব প্রভৃতি কথাও অত্যন্ত সহজ ভাষায় বর্ণনা করেছেন। প্রতিটি শ্লোকই মানবজীবনের গভীর রহস্যের  তাৎপর্যবাহী। ভাব এবং আঙ্গিক –-উভয় দিক দিয়েই নীতিশতক মুক্তমালা।  যেমন--                                                                            ‘অজ্ঞঃ সুখমারাধ্যঃ সুখতরমারাধ্যতে বিশেষজ্ঞঃ।             জ্ঞানলবদুর্বিদ্গ্ধং  ব্রহ্মাপি  নরং রঞ্জয়তি।।‘                                                                                 
অথবা,
,                                                                                   ‘বিঘ্নৈঃ পুনঃ পুনঃ  প্রতিহন্যমানা                                      প্রারব্ধমুত্তমজনা  ন  পরিত্যজন্তি।।                                                                                            
ভর্তৃহরির রচনাশৈলী বেশ চমৎকারজনক। ভাষার  সরলতা, ভাবের উদারতা, শব্দবিন্যাস, উক্তি-বৈচিত্র্য প্রভৃতি কাব্যকৌশলে নীতিশতক অত্যন্ত উপাদেয় কাব্য। প্রসাদগুণ, মাধু্র্যগুণ ও পদলালিত্যের সমন্বয়ে কাব্য সৌন্দর্যমণ্ডিত  হয়েছে। কবির বাক্যগঠন ঋজু ও বলিষ্ঠ। যেমন--  বিদ্যামাহাত্ম্য বিষয়ক শ্লোকটি--                                                                         
বিদ্যা নাম  নরস্য  রূপমধিকং প্রচ্ছন্নগুপ্তং  ধনং             বিদ্যা ভোগকরী  যশঃসুখকরী বিদ্যা গুরূণাং গুরুঃ।       বিদ্যা বন্ধুজনো  বিদেশগমনে বিদ্যা পরং দৈবতং             বিদ্যা রাজসু পূজিতা ন তু ধনং বিদ্যাবিহীনঃ পশুঃ।। কবি ভর্তৃহরি কাব্যে ছন্দ ও অলংকারের ব্যবহারেও কুশলতার পরিচয় দিয়েছেন। ছন্দের মধ্যে বসন্ততিলক, শিখরিণী,  উপজাতি, ও স্রগ্ধরা এবং অলঙ্কারের মধ্যে উপমা, রূপক, দৃষ্টান্ত, স্বভাবোক্তি এবং অতিশয়োক্তির বহুল ব্যবহার করেছেন।  মানবজীবনের সকল প্রকার ন্যায়ধর্মই এখানে আলোচিত হয়েছে।  সংসারে ভাল ও মন্দ –দুটি দিক আছে। কোনটা ভাল কোনটা মন্দ তা বোঝার মতো বিবেকজ্ঞান অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত মানুষের মধ্যে কল্যাণভাবনাও  যেমন আসে না, তেমনি পাপ করার প্রবণতাও দূর হয় না। ভর্তৃহরি তাঁর কাব্যে ভাল-মন্দের দিগ্দর্শন  করিয়ে ন্যায়ধর্মের জয়গান করেছেন। মানুষের পুরুষকার   এবং  সৎকর্মই তার ভাগ্যকে নিয়ন্ত্রণ করে। নিজের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে,  মহত্তর আকাঙ্ক্ষার বশবর্তী হয়ে মহতের আদর্শ অনুসরণ করে মানুষকে চলার পথে এগিয়ে যেতে হবে –-এই পথই নির্দেশিত হয়েছে নীতিশতকে। অধ্যাপক  Tawney  নীতিশতকের মূল্যায়ন করে বলেছেন-- 'Though the word 'Niti` is usually translated policy, most of the stanzas arranged under this head are rather of an ethical and social character. They include maxims of worldly prudence and seen designed to teach knowledge of men and individuals, rather than as members of political communities.`

Comments

Ads

Popular

১. প্রাচীনভারতীয় আয়ুর্বেদশাস্ত্র (Medical Science), ২. বাস্তুশাস্ত্রম্‌ (C-8, Unit II: Scientific and Technical Literature)

3rd Sem, SEC-1, Usage of words in day-to-day life-1

বহুল ব্যবহৃত কিছু ইংরেজি শব্দের সংস্কৃত প্রতিশব্দ—