ads

ad

3rd sem, C-5, লৌকিক-সংস্কৃতসাহিত্যেতিহাসঃ (Broad Questions-1-2)


3rd sem, C-5, লৌকিক-সংস্কৃতসাহিত্যেতিহাসঃ
(Broad Questions-1-2)

. কিং  তাবদ্গীতিকাব্যম্‌? সংস্কৃত-গীতিকাব্যানাং বিস্তারিতং বিবরণং  দীয়তাম্

উত্তরম্‌—প্রাচীন গ্রীসে ‘Lyre’ নামক তারযন্ত্র সহযোগে গান করা হত এই Lyre থেকেই Lyric কথাটি এসেছে Oxford Dictionary-তে বলা হয়েছে—‘Lyric is now the name for short poems, usually divided into stanzas and directly expressing the poet's own thoughts or sentiments.'
James Reeves বলেছেন-- "Lyric is a short poem in no fixed form, expressing a single thought, mood or feeling.'
M. H. Abrams বলেছেন-- The term is now used for any fairly short, non-narrative poem presenting a single speaker who expresses a state of mind or a process of thought and feeling.'
বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর ‘গীতিকাব্য’ প্রবন্ধে বলেছেন—‘গীত হওয়াই গীতিকাব্যের উদ্দেশ্য; কিন্তু যখন দেখা গেল যে, গীত না হইলেও কেবল ছন্দোবিশিষ্ট রচনাই আনন্দদায়ক এবং সম্পূর্ণ চিত্তভাবব্যঞ্জক, তখন গীতোদ্দেশ্য দূরে রহিল, অগেয় গীতিকাব্য রচিত হইতে লাগিল। অতএব গীতের যে উদ্দেশ্য, যে কাব্যের সেই উদ্দেশ্য, সেই কাব্যই গীতিকাব্য।‘
গীতিকবিতায় ব্যক্তিহৃদয়ের স্পন্দন থাকবে। গীতিকবিতা হবে ছবির মতো সুন্দর এবং গানের মতো মধুর। কবি এখানে নিজেকেই তাঁর কাব্যের বিষয়ীভূত করেনMan himself becomes the work of art.’
ইংরেজিতে যাকে Lyric বলে, সংস্কৃতে সেই বৈশিষ্ট্যযুক্ত কাব্য প্রায় বিরল তবু কবির আত্মগত ভাবোচ্ছ্বাসের প্রকাশ ঘটেছে এমন কাব্য অনেক আছে এই শ্রেণীর কাব্যগুলিকেই Lyric  বলা যেতে পারে  

Lyric এর শ্রেণীবিভাগ
সংস্কৃত গীতিকাব্যগুলিকে মোটামুটি তিনভাগে ভাগ করা যেতে পারে
. শৃঙ্গাররসাত্মক বা প্রেমমূলক, . ভক্তিরসাত্মক বা ভক্তিমূলক এবং .. নীতিমূলক এছাড়া সংগ্রহমূলক কিছু গীতিকবিতা আছে

উল্লেখযোগ্য শৃঙ্গাররসাত্মক বা প্রেমমূলক গীতিকাব্য
কালিদাসের মেঘদূত ঋতুসংহার, ঘটকর্পরের ঘটকর্পরকাব্য, ধোয়ীর পবনদূত, অমরুর অমরুশতক, বিলহ্ণণের চৌরপঞ্চাশিকা, হাল বা সাতবাহনের গাথাসপ্তশতী, গোবর্ধনের আর্যাসপ্তশতী, দামোদরের কুট্টনীমতকাব্য, ভর্তৃহরির শৃঙ্গারশতক প্রভৃতি।

উলেখযোগ্য ভক্তিরসাত্মক গীতিকাব্য
জয়দেবের গীতগোবিন্দ, বাণভট্টের চণ্ডীশতক, কবি ময়ূরভট্টের সূর্যশতক, মূককবির মূকপঞ্চশতী, আনন্দবর্ধনের দেবীশতক, বিল্বমঙ্গল বা কৃষ্ণলীলাংশুলের কৃষ্ণকর্ণামৃত,  মধুসূদন সরস্বতীর আনন্দমন্দাকিনী, জগন্নাথের সুধালহরী, অমৃতলহরী, করুণালহরী, শঙ্করের আনন্দলহরী, রামচন্দ্রের ভক্তিশতক প্রভৃতি।

উল্লেখযোগ্য নীতিমূলক গীতিকাব্য
ভর্তৃহরির নীতিশতক, ক্ষেমেন্দ্রের চারুচর্যা, জগন্নাথের ভামিনীবিলাস, ভল্লটের ভল্লটশতক প্রভৃতি।

উল্লেখযোগ্য সংগ্রহমূলক গীতিকাব্য
শ্রীধরদাসের সদুক্তিকর্ণামৃত,  জল্‌হণের সূক্তিমুক্তাবলী, শার্ঙ্গধরের শার্ঙ্গধরপদ্ধতি, রূপগোস্বামীর পদ্যাবলী প্রভৃতি।

সংস্কৃত সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গীতিকাব্যসমূহের বিববণ

মেঘদূত—শুদ্ধ বিরহকে অবলম্বন করে সংস্কৃত গীতিকাব্যের ইতিহাসে কালিদাসের মেঘদূত প্রথম ও পূর্ণাঙ্গ রচনা। অলকার অধিপতি কুবেরের ভৃত্য কোন এক যক্ষ কর্তব্যে অবহেলার জন্য শাস্তিস্বরূপ এক বছরের জন্য সুদূর রামগিরি পর্বতে নির্বাসিত হয়। সেখানে কয়েক মাস কাটিয়ে যক্ষ পত্নীবিরহে অত্যন্ত কাতর হয়ে পড়ে। আষাঢ়ের প্রথম দিবসে বর্ষার নতুন মেঘ দেখে তার চিত্ত উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। চেতনাচেতনে ভেদবুদ্ধি লুপ্ত হয়ে সে সেই মেঘকেই প্রিয়তমা পত্নীর কাছে বার্তা প্রেরণের জন্য দূতরূপে নিযুক্ত করে। পূর্বমেঘে পাহাড়-নদ-নদী-নগরী-সমন্বিত মেঘের যাত্রাপথের বিচিত্র নয়নমনোহর বর্ণনা দিয়ে মেঘকে অলকায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। উত্তরমেঘে অলকা, যক্ষপুরী ও যক্ষবধূর বর্ণনা দিয়ে মেঘের মুখে বার্তাটি বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ঋতুসংহার—কালিদাসের এই কাব্যে ছয়টি সর্গে ছয়টি ঋতুর বর্ণনা আছে। কালের পরিবর্তনে প্রকৃতিরাজ্যে পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতশোভার চিত্র, প্রাণিজগতের সুখ-দুঃখ, লীলাবিলাস, বিশেষতঃ প্রকৃতি প্রভাবে মানুষের দেহে-মনে শৃঙ্গারের বাহ্য ভোগ-উপকরণ ও মানসিক বৈচিত্র্য বর্ণিত হয়েছে।

ঘটকর্পরকাব্য—রাজা বিক্রমাদিত্যের সভার নবরত্নের অন্যতম কবি ঘটকর্পর মেঘদূতের অনুসরণে ২২ টি শ্লোকে এই কাব্য রচনা করেন। এর বিষয়বস্তু—কোন এক প্রোষিতভর্তৃকা নববধূ বর্ষার মেঘ দেখে স্বামীর চিন্তায় ব্যাকুল হয়ে সেই মেঘকে দূত করে তার কাছে প্রেরণ করতে মনঃস্থির করেন। কবি এই কাব্যে যমক অলঙ্কারের চাতুর্য সৃষ্টিতে বিশেষ পারদর্শিতা দেখিয়েছেন।

পবনদূত— খ্রীষ্টীয় দ্বাদশ শতাব্দীতে ধোয়ী ১০৪টি শ্লোকে এই কাব্য রচনা করেন। এখানে বর্ণিত হয়েছে—কবির পৃষ্ঠপোষক রাজা লক্ষ্মণসেনের দাক্ষিণাত্য অভিযানের সময় মলয়পর্বতে কুবলয়বতী নামে এক গন্ধর্ব রাজকন্যার সঙ্গে তাঁর প্রণয় হয়। নায়কের দেখা না পেয়ে নায়িকা দক্ষিণবায়ুকে তাঁর কাছে দূত করে প্রেরণ করেন।  

অমরুশতক—খ্রীষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীর কবি অমরু অবিমিশ্র প্রেমকে উপজীব্য করে শতাধিক শ্লোকে এই কাব্য রচনা করেছেন। নব অনুরাগিণীর প্রেমমুগ্ধ ভাব, মান-অভিমান, ঈর্ষ্যাদ্বন্দ্ব, সপত্নীর প্রণয়কলহ, অকারণ ও দীর্ঘ বিরহের বিষম পরিণতি প্রভৃতি বিষয়-ভাবনাই কবি সোচ্চারে প্রকাশ করেছেন। অধ্যাপক A. B. Keith অমরু-চিত্রিত প্রেমকে high-spirited বলেছেন

চৌরপঞ্চাশিকা— বিল্‌হণ একাদশ খ্রীষ্টাব্দে এই কাব্যটি রচনা করেন। কবি এক রাজকুমারীর শিক্ষক ছিলেন।  তাঁদের মধ্যে প্রণয় জন্মালে রাজা তা জানতে পেরে কবিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। বধ্যভূমিতে কবি প্রেমিকার কথা স্মরণ করে পঞ্চাশটি শ্লোক রচনা করেন। রাজা সেই সংবাদ শুনে কবিকে তাঁর কন্যা সম্প্রদান করেন। এটাই এই কাব্যের বিষয়বস্তু।

 গাথাসপ্তশতী-- হাল বা সাতবাহন-রচিত প্রাকৃত ভাষায় সাতশত শ্লোকে এই কাব্য রচনা করেন। এর প্রাকৃত নাম ‘গাহা সত্তসঈ’। এই কাব্যের মূল বিষয় অবিমিশ্র প্রেম।

আর্যাসপ্তশতী—খ্রীষ্টীয় দ্বাদশ শতকে লক্ষ্মণসেনের সভাকবি গোবর্ধন আর্যাছন্দে সাতশত আদিরসাত্মক শ্লোকে এই কাব্য রচনা করেন।

 কুট্টনীমতকাব্য—দামোদর এই কাব্যের রচয়িতা। এর বিষয়বস্তু—গণিকার পেশায় আগত কোন অজ্ঞ তরুণীকে ছলাকলায় দক্ষ করে তোলা।

শৃঙ্গারশতক—ভর্তৃহরি একশত শ্লোকে এই কাব্য রচনা করেন। এখানে কবি শৃঙ্গারবিষয়ক জগত ও জীবনের রূঢ় বাস্তবতা ব্যক্তিগত অনুভূতিতে ব্যক্ত করেছেন।

গীতগোবিন্দ—ভক্তিমূলক গীতিকাব্যের ইতিহাসে জয়দেবের গীতগোবিন্দ এক অনন্য কীর্তি। এই কাব্যে আশিটি শ্লোক এবং চব্বিশটি গান আছে। কবি রাধাকৃষ্ণের অপার্থিব প্রেমলীলাকে অবলম্বন করে ভাগবতের আদর্শ অনুসরণে দ্বাদশ সর্গে  এই কাব্য রচনা করেন। যমুনাতীরের শুচি-স্নিগ্ধ বৃন্দাবনের কুঞ্জকুটিরে রাধাকৃষ্ণের মিলন-বিরহ, রাগ-অনুরাগ, মান-অভিমান, আনন্দ-বেদনা প্রভৃতি ভাব বর্ণনা করাই গীতগবিন্দের মুখ্য বিষয়।
কবি তাঁর কাব্যকে বলেছেন—প্রবন্ধ, পদাবলী, মঙ্গল-উজ্জ্বলগীতি। পাশ্চাত্ত্য সমালোকদের কেউ কেউ বলেছেন-- "Refined Yatra', কেউ বলেছেন--"pastoral drama',  কেউ বলেছেন--"lyric drama'.   শ্রীচৈতন্য ভাবাদর্শের গ্রন্থ  বলেছেন।

চণ্ডীশতকবাণভট্ট দেবী চণ্ডীর উদ্দেশ্যে একশত শ্লোকে এই কাব্য রচনা করেন।  

সূর্যশতককবি ময়ূরভট্ট সূর্যের স্তব-বিষয়ক একশত শ্লোকে এই কাব্য রচনা করেন ময়ূরভট্ট বাণভট্টের শ্বশুর বলে পরিচিত কিংবদন্তী আছেএক সকালে বাণের পত্নী স্নান সেরে ঘরে ফিরছিলেন কবি নিজের কন্যাকে চিনতে না পেরে আটটি শ্লোকে তাঁর রূপ বর্ণনা করেন এটাই ময়ূরাষ্টক নামে খ্যাত ময়ূরাষ্টকের কথা শুনে বাণপত্নী কবিকে কোষ্ঠরোগগ্রস্ত হওয়ার অভিশাপ দেন অভিশপ্ত কবি সূর্যের স্তব করে তা থেকে মুক্ত হন এটাই সূর্যশতক নামে পরিচিত

মূকপঞ্চশতীমূককবি কাঞ্চীরাজ্যের কামাক্ষ্যা দেবীর উদ্দেশ্যে পাঁচশত ম্লোকে এই কাব্য রচন করেন কবির নামানুসারেই এই কাব্যের নামকরণ হয়েছে

দেবীশতকআনন্দবর্ধন খ্রীষ্টীয় নবম শতাব্দীতে একশত শ্লোকে দেবী পার্বতীর স্তব-বিষয়ক এই কাব্যটি রচনা করেন

কৃষ্ণকর্ণামৃত--বিল্বমঙ্গল খ্রীষ্টীয় দ্বাদশ শতকে শ্রীকৃষ্ণের বিভিন্ন লীলাকে অবলম্বন করে তিনশত শ্লোকে এই কাব্য রচনা করেন।

আনন্দমন্দাকিনী—মধুসূদন সরস্বতী খ্রীষ্টীয় ষোড়শ শতকে কৃষ্ণের রূপমাধুর্য বর্ণনা করে এই কাব্য রচনা করেন।

ভক্তিশতক—কবি রামচন্দ্র ত্রয়োদশ খ্রীষ্টাব্দে এই কাব্য রচনা করেন।

উপসংহার—সংস্কৃত গীতিকাব্যগুলিতে ভারতীয় জীবনধারাই প্রতিফলিত হয়েছে। কাম ও প্রেমের মধ্যে যে গভীর পরিণতির ভাব আছে, তার মধ্যে শৃঙ্গার, নীতি, বৈরাগ্য সব কিছুই অতি স্বাভাবিকভাবেই এসে পড়েছে। সংস্কৃত গীতিকাব্যে এই সবগুলিই মিশে আছে। সংস্কৃত গীতিকাব্যের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে Dr. S. N. Dasgupta বলেছেনThe genius of Sanskrit writers in their realism of life has found a much better expression in small pictures of lyric poems than in long-drawn epics. The expressed motive probably also explains why so often find carnal and gross aspects of human love so passionately portrayed.

-----


. কিং তাবৎ চম্পূকাব্যম্‌? সংস্কৃত-চম্পূকাব্য-বিষয়ে নাতিদীর্ঘ কশ্চিত্প্রবন্ধ:  লিখ্যতাম্

উত্তরম্‌—সংস্কৃত সাহিত্যে গদ্য ও পদ্যের সংমিশ্রণে বিশেষভাবে রচিত কাব্য খ্রিষ্টীয় দশম শতকে বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল গদ্যপদ্যময় এই রচনার নাম চম্পূ আলঙ্কারিকগণ এই বিষয়ে বিস্তারিত কোন আলোচনা করেন নি। কেউ কেউ শুধু চম্পূকাব্যের সংজ্ঞা দিয়েছেন। আচার্য দণ্ডী বলেছেন—‘গদ্যপদ্যময়ী কাচিচ্চম্পূরিত্যভিধীয়তে’। বিশ্বনাথ বলেছেন—‘গদ্যপদ্যময়ং কাব্যং চম্পূরিত্যভিধীয়তে।'

সংস্কৃত-চম্পূকাব্যের শ্রেণীবিভাগ—কাহিনী অনুসারে চম্পূকাব্যগুলিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন—রামায়ণ আশ্রিত, মহাভারত আশ্রিত, পুরাণ আশ্রিত, জীবনচরিত আশ্রিত, কৃষ্ণলীলা আশ্রিত এবং ইতিহাস আশ্রিত।

সংস্কৃত সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য চম্পূকাব্যের বিবরণ—

নলচম্পূ—চম্পূকাব্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন হল নলচম্পূ। ত্রিবিক্রম ভট্ট দশম খ্রিষ্টাব্দে মহাভারতের নল-দময়ন্তীর কাহিনী অবলম্বনে সাত উচ্ছ্বাসে এই কাব্য রচনা করেন।
ত্রিবিক্রম ছিলেন শাণ্ডিল্যগোত্রীয় শ্রীধরের পৌত্র এবং নেমাদিত্যের পুত্র। রাষ্ট্রকূটবংশীয় রাজা তৃতীয় ইন্দ্রের পৃষ্ঠপোষকতায় ত্রিবিক্রম রাজসভাকবির মর্যাদা লাভ করেন। কিংবদন্তী অনুসারে কবি একদিন রাজনভায় পিতার অনুপস্থিতির সময়ে তাঁর প্রতিস্পর্ধী কোন কবির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নলচম্পূ রচনা করেন।

মদালসাচম্পূ—এই কাব্যটিও ত্রিবিক্রম-রচিত। মার্কেণ্ডেয় পুরাণে বর্ণিত রাজা কুবলয়াশ্ব ও রাজকুমারী মদালসার কাহিনী অবলম্বনে এই কাব্যটি রচিত হয়েছে।

রামায়ণচম্পূ—বিদর্ভের রাজা ভোজ একাদশ খ্রিষ্টাব্দে এই কাব্য রচনা করেন। এখানে বাল্মীকি-রামায়ণের সুন্দরকাণ্ড পর্যন্ত কাহিনী বর্ণিত ছিল। পরবর্তীকালে লক্ষ্মণ সূরি, রাজচূড়ামণি দীক্ষিত, ঘনশ্যাম কবি, মুক্তীশ্বর দীক্ষিত প্রমুখ কবিগণ অবশিষ্ট অংশগুলি যুক্ত করেন। সাবলীল গদ্য, নাটকীয়তা, মনোরম প্রাকৃতিক বর্ণনা, পরিমিত ভাবাবেগ, চরিত্রচিত্রণ প্রভৃতি গুণে কাব্যটি অতি উৎকৃষ্ট।

ভারতচম্পূ—পঞ্চদশ খ্রিষ্টাব্দে কবি অনন্তভট্ট এই কাব্য রচনা করেন। এখানে মহাভারতের সামগ্রিক কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। কবি কুরুপাণ্ডবের কাহিনীই প্রধান উপজীব্য করেছেন এবং অপ্রাসঙ্গিক অংশ পরিত্যাগ করেছেন। মহাপ্রস্থান ও স্বর্গারোহণ পর্বের কাহিনীও বাহুল্য মনে করে বাদ দিয়েছেন। কবি যমক, অনপ্রাস ও শ্লেষ অলঙ্কারের ভুল প্রয়োগ এবং ওজোগুণের সন্নিবেশে  কাব্যটিকে অযথা জটিল করে তুলেছেন।

যশস্তিলকচম্পূ—প্রখ্যাত জৈনাচার্য সোমদেব ৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে গুণভদ্রের উত্তরপুরাণে বর্ণিত যশোধরের জীবনচরিত অবলম্বনে আট আশ্বাসে এই কাব্য রচনা করেন। তিনি রাষ্ট্রকূটবংশীয় রাজা তৃতীয় কৃষ্ণের সভাকবি ছিলেন।  
সোমদেব বাণভট্টের রচনারীতির আদর্শ অনুসরণ করেছেন। ছন্দের বৈচিত্র্য, অলঙ্কারের সার্থক প্রয়োগ, ভাব-ভাষা, ধর্মীয় তত্ত্ব ও নীতির অপূর্ব সামঞ্জস্যবিধানে সোমদেব পাণ্ডিত্য ও শিল্পের অপূর্ব সমন্বয় সাধন করেছেন।

জীবন্ধরচম্পূ—বাদীভসিংহ বিশেষণে ভূষিত হরিচন্দ্র উত্তরপুরাণে বর্ণিত জীবন্ধরের পবিত্র জীবনকাহিনী নিয়ে এই কাব্য রচনা করেন। কবির অন্য দুটি গ্রন্থ—গদ্যচূড়ামণি ও ক্ষত্রচূড়ামণি। কবি হরিচন্দ্র দণ্ডী ও বাণভট্টের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত। ধর্মীয় রচনারূপে তাঁর কাব্য বেশী সমাদৃত।

ভাগবতচম্পূ—কৃষ্ণকথা আশ্রিত এই চম্পূ অভিনব কালিদাসের রচনা। তিনি সম্ভবতঃ একাদশ খ্রিষ্টাব্দের কবি। তাঁর আর তিনটি রচনা-- অভনব ভারতচম্পূ, ভাগবত-পাদসপ্তশতী  ও কলিবিড়ম্বন।
গোপালচম্পূ—বৈষ্ণব ভক্তকবি জীবগোস্বামী কৃষ্ণের বাল্যলীলা অবলম্বনে এই কাব্য রচনা করেন।

আনন্দবৃন্দাবন চম্পূ—কবি কর্ণপুর পরমানন্দ দাস-রচিত বিশালকায় এই চম্পূকাব্যে ২২টি স্তবকে শ্রীকৃষ্ণচরিতের মূল কাহিনীগুলি ভাগবতের অনুসরণে লিপিবদ্ধ হয়েছে। এই কাব্যে কবির ভক্তিভাবনা – কবিত্বশক্তির  অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে।

অন্যান্য চম্পূকাব্যের বিবরণ—ভাগবত-প্রসিদ্ধ কৃষ্ণকাহিনী অবলম্বনে আর কিছু চম্পূকাব্য রচিত হয়েছিল। এইগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—চিদম্বর, অনন্তভট্ট, রামভদ্র অ রাজনাথের ভাগবতচম্পূ, কবি পদ্মরাজের বালভাগবত, মিত্রমিশ্রের আনন্দকদম্বচম্পূ।
পুরাণ ও ভাগবতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত হয় কেশবভট্ট, দৈবজ্ঞসূর্য এবং সঙ্কর্ষণের নৃসিংহচম্পূ।
বারাণসীর প্রসিদ্ধ বৈয়াকরণ শেষকৃষ্ণ রচনা করেন পারিহরণচম্পূ।
কেরালার কবি নারায়ণভট্ট পৌরাণিক আখ্যান অবলম্বনে ১৪টি চম্পূকাব্য ও প্রবন্ধ রচনা করেন। তার মধ্যে পাঞ্চালীস্বয়ম্বর,  স্বাহাসুধাকরচম্পূ, অষ্টমীমহোৎসবচম্পূ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
নীলকণ্ঠ দীক্ষিতের নীল্কণ্ঠবিজয়চম্পূ সমুদ্রমন্থনের কাহিনী অবলম্বনে শিবের মাহাত্ম্য প্রতিপাদনের উদ্দেশ্যে রচিত।
এছাড়া রামকবির রামাভ্যুদয়, দিবাকরের অমোঘরাঘব, শ্রীনিবাসের রামকথাসুধোদয়, অনন্তাচার্যের চম্পূরাঘব, দেবরাজের রামাভিষেক, রামস্বামীর সীতাচম্পূ, অম্মলকবির রুক্মিণীপরিণয়, রামেশ্বর কবির পার্বতীপরিণয়, নৃসিংহের ত্রিপুরবিজয়, পরশুরামের কৃষ্ণচম্পূ, চিরঞ্জীবের মাধবচম্পূ প্রভৃতি অসংখ্য চম্পূকাব্য সংস্কৃত সাহিত্যের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।

উপসংহার—সংস্কৃত চম্পূকাব্যগুলি মূলতঃ কৃত্রিম রচনা। ভারবি ও বাণভট্টের হাতে যে কৃত্রিম রচনার সূত্রপাত হয়েছিল, তা অনুসরণ করেই চম্পূকাব্যগুলি রচিত হয়েছে। পাঠকচিত্তে চমক লাগানোই চম্পূকাব্যের প্রধান উদ্দেশ্য। ফলে অনেক স্থলেই রচনা হয়েছে দুর্বোধ্য। সে যাই হোক সংস্কৃত সাহিত্যের এক পৃথক্‌ শ্রেণীর পরীক্ষামূলক রচনা হিসাবে চম্পূকাব্যগুলির গুরুত্ব অনস্বীকার্য। Dr. S. N. Dasgupta চম্পূকাব্যের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে বলেছেন--  Excepting rarely outstanding treatment here and there, the large number of Capmūs that exist scarcely shows any special characteristic in matter and manner which is not already familiar to us from the regular metrical and prose-kāvya.
-------

Comments

Ads

Popular

১. প্রাচীনভারতীয় আয়ুর্বেদশাস্ত্র (Medical Science), ২. বাস্তুশাস্ত্রম্‌ (C-8, Unit II: Scientific and Technical Literature)

3rd Sem, SEC-1, Usage of words in day-to-day life-1

বহুল ব্যবহৃত কিছু ইংরেজি শব্দের সংস্কৃত প্রতিশব্দ—