Posts

Showing posts from August, 2018

ads

ad

গীতাপাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলা ভাল

‘’গীতাপাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলা ভাল’’
--স্বামী বিবেকানন্দের এই কথা বলে অনেকে বেশ রসাল মজা পান। তারা ভাবেন স্বামী বিবেকানন্দ যখন বলেছেন তখন তো  তা নিশ্চয়ই অভ্রান্ত। কাজেই তোমরা ফুটবলই খেলো, গীতাপাঠ নিষ্প্রয়োজন।
ফুটবল খেলার উল্লেখ এখানে একটা প্রতীকমাত্র। বিবেকানন্দ  শরীর চর্চাকে অনেক গুরুত্ব দিতেন। শরীর সুস্থ না থাকলে মনও সুস্থ থাকে না—এটা আমাদের সকলেরই অভিজ্ঞতা। তাই সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন  নিয়ম করে  শরীরচর্চা করতে হয়।  শরীর চাঙ্গা থাকলে মনও চনমনে থাকে। তখন যে কোন কাজ ভালভাবে  এবং কম সময়ে করা যায়।
বিবেকানন্দ ছিলেন কর্মযোগী। শিবজ্ঞানে জীবসেবাই  ছিল তাঁর জীবনের মূলমন্ত্র। মানুষের মধ্যেই যে নারায়ণ আছেন তা তিনি শিখেছিলেন তাঁর গুরুদেব শ্রীরামকৃষ্ণের কাছ থেকে। আপনাদের মনে আছে—নরেন্দ্রনাথ একদিন   শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে জানতে চান--  তাঁর মুক্তি হবে কিসে? শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁকে তিরস্কার করে বলে ছিলেন—‘দুশ্শালা, তুই এতো স্বার্থপর কেনে? কোথায়  মস্ত বটগাছের মতো হবি, কত পাপী তাপী তোর ছায়ায় বিশ্রাম নেবে। আর তুই শালা নিজের মুক্তি চাইছিস?’ (কথাটা একটু অন্যরকমও হতে পারে)
আপনারা জানেন—এরপর  নরেন্দ্রনাথের জীবনে…

‘’কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন’’

‘’কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন’’
(কর্মণি এব অধিকারঃ তে মা ফলেষু কদাচন)
এর আক্ষরিক মানে—কর্মেই তোমার অধিকার, ফলে কখনো নয়।
এটা আবার হয় নাকি? আমি কাজ করব আর ফল পাব না? এ কেমন ধারা কথা? আমরা জানি-- যেমন কর্ম তেমন ফল। ভাল কাজের ভাল ফল, খারাপ কাজের খারাপ ফল। কাজের ফলই যদি না পাওয়া যায় তাহলে লোকে কি কাজ করবে? ভূতের বেগার কেউ কি খাটতে চায়?  যদি কেউ ফলের আশা না করে শুধু কাজ করে যায়, তাহলে এটাকে কি ‘ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো’ বলে না? আমি পরীক্ষা দিলাম, তার ফলে আমার কোন অধিকার নেই? আমি চাকরি পেলাম তার ফলে (মাইনেতে) আমার কোন  অধিকার নেই? আমি বাড়ি করলাম তাতে আমার কোন অধিকার নেই?  নিঃসন্তান দম্পতী সন্তানের আশা করবে না?  সঙ্গত প্রশ্ন। সত্যিই তো। গীতা কী সব উল্টো –পাল্টা কথা বলেছে ! যত সব অবাস্তব কথা। গোলকধাঁধায় ফেলে দেয়।
গোলকধাঁধাই বটে। গীতার কথা বুঝতে হলে একটু তলিয়ে যে ভাবতে হবে বন্ধু। আমিও যে বেশী কিছু বুঝি তা কিন্তু  মোটেই নয়। আমি আমার ক্ষুদ্র চিন্তা-ভাবনা দিয়ে উক্ত বাক্যটির অর্থ যেভাবে বুঝেছি তাই আপনাদের কাছে তুলে ধরছি। আপনারা যদি অন্যরকম ভাবেন, তাহলে নিজের মতামত অবশ্যই জানাবেন।
দেখুন, গী…

শিবলিঙ্গ সম্বন্ধে কয়েকটি কথা

শিবলিঙ্গ সম্বন্ধে কয়েকটি কথা—
শিবলিঙ্গের পূজা এখন সারা দেশেই অত্যন্ত জনপ্রিয়। লিঙ্গ শব্দের অর্থ প্রতীক বা চিহ্ন। শিবের প্রতীক শিবলিঙ্গ, যেমন বিষ্ণুর প্রতীক শালগ্রাম শিলা। শিবলিঙ্গের পূজা মানে শিবের পূজা। কিন্তু বেশীর ভাগ পণ্ডিত ব্যক্তি শিবলিঙ্গের পূজাকে প্রজনন শক্তির উপাসনা মনে করেন। তারা লিঙ্গপ্রতীককে পুংজননেন্দ্রিয় , গৌরীপটকে যোনির প্রতীক ধরে শিবলিঙ্গকে সৃষ্টি কর্মের প্রতীকরূপে গ্রহণ করেছেন।
শিবলিঙ্গের উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন পুরাণে নানা ধরণের কাহিনী আছে। সেই কাহিনীগুলির বেশীর ভাগই অশ্লীল। তার মধ্য থেকে বেছে দু’একটা বলছি--
স্কন্দপুরাণের প্রভাস খণ্ডে জ্যোতির্লিঙ্গের আবির্ভাবের কাহিনী—
একদিন ব্রহ্মা ও বিষ্ণুর মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ তা নিয়ে দু’জনের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়। সহস্র বৎসর চলার পর সেই যুদ্ধের মাঝে আবির্ভূত হয় এক তেজোময় মহালিঙ্গ। সেই সময়ে আকাশবাণী হয়—তোমরা যুদ্ধ থামাও। এই মহালিঙ্গকে দেখ। যিনি এর শেষ দেখতে পাবেন, তিনিই হবেন শ্রেষ্ঠ। তখন ব্রহ্মা ঊর্ধ্ব লোকে এবং বিষ্ণু অধোলোকে যাত্রা করলেন লিঙ্গের শেষ দেখার জন্য। কিন্তু কেউই শেষ দেখতে পারলেন না। বিষ্ণু রুদ্রের তেজে দগ্ধ হয়ে কাল (ক…

Ads