ads

ad

3rd sem, C-6, Unit-II, याज्ञवल्क्यसंहिता (व्यवहाराध्यायः) Broad Questions-3-4 (in Bengali)


3rd sem, C-6, Unit-II, याज्ञवल्क्यसंहिता (व्यवहाराध्यायः)
Broad Questions-3-4 (in Bengali)

৩. কিং তাবত্‌ স্ত্রীধনম্‌ ?  স্ত্রীধন-বিষয়ে যাজ্ঞবল্ক্যস্য মতং সবিশদমালোচ্যতাম্‌।

উত্তরম্‌-- ‘স্ত্রীধন’ বলতে স্ত্রীলোকের নিজস্ব ধন বোঝায়। যাজ্ঞবল্ক্যসংহিতার ‘ব্যবহার’ অধ্যায়ে ‘দায়ভাগ’ প্রকরণে স্ত্রীধন বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। স্ত্রীলোকের কোন কোন সম্পত্তিকে স্ত্রীধন বলা হবে সে সম্বন্ধে যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন—
‘’পিতৃ-মাতৃ-পতি-ভ্রাতৃদত্তমধ্যগ্ন্যুপাগতম্‌।
আধিবেদনিকাদ্যঞ্চ স্ত্রীধনং পরিকীর্তিতম্‌।।
বন্ধুদত্তং তথা শুল্কমন্বাধেয়কমেব বা।‘
--বাব, মা, স্বামী ও ভাইয়ের প্রদত্ত ধন, বিয়ের সময় অগ্নিসাক্ষী করে প্রদত্ত ধন, আধিবেদনিক বা পুনর্বিবাহের সময় প্রথম স্ত্রীকে দেয় ধন –এইগুলিকে স্ত্রীধন বলে। এছাড়া কন্যাদের আত্মীয়স্বজনদের প্রদত্ত ধন (বন্ধুদত্ত), কন্যাপণের ধন (শুল্ক), বিয়ের পর স্বামীকুলে প্রাপ্ত ধনও স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য।

আচার্য   বিজ্ঞানেশ্বর ‘মিতাক্ষরা’ টীকায় আরও তিন প্রকার স্ত্রীধনের কথা বলেছেন। যথা—
১. অধ্যাবহনিক—শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার সময় নববিবাহিত কন্যা যে ধন পায়।
২. পাদবন্দনিক—শ্বশুর-শাশুড়ী সন্তুষ্ট হয়ে নববধূকে যে ধন দেন।
৩. সৌদায়িক—বিবাহিত কন্যা শ্বশুরবাড়িতে এবং অবিবাহিত কন্যা বাপের বাড়িতে যে ধন পায়।
মনু ছয় প্রকার স্ত্রীধনের কথা বলেছেন—
‘অধ্যগ্ন্যধ্যাবহনিকং দত্তং চ প্রীতিকর্মণি।
ভ্রাতৃ-পিতৃ-মাতৃপ্রাপ্তং ষড্‌বিধং স্ত্রীধনং স্মৃতম্‌।।

স্ত্রীধনের উত্তরাধিকার
এই বিষয়ে যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন—‘অতীতায়ামপ্রজসি বান্ধবাস্তদবাপ্নুয়ুঃ।‘
--সন্তানহীন কোন স্ত্রীলোক মারা গেলে তার ধন স্বামী প্রভৃতি আত্মীয়গণ পাবে। এরপর যাজ্ঞবল্ক্য বিধান দিয়েছেন—
‘অপ্রজঃ স্ত্রীধনং ভর্তুর্ব্রাহ্মণাদিষ্বপি।
দুহিতৄণাং প্রসূতা চেত্‌ শেষেষু পিতৃগামি তত্‌।।‘
ব্রাহ্ম, দৈব, আর্ষ  ও প্রাজাপত্য –এই চার প্রকারে  বিবাহিতা নিঃসন্তান নারীর মৃত্যুর পর তার ধন স্বামী বা নিকট আত্মীয় পাবে। আসুর, গান্ধর্ব, রাক্ষস ও পৈশাচ বিবাহে স্ত্রীধন তার মাতা, তার অভাবে পিতা, তাদের অভাবে নিকট আত্মীয়রা পাবে।
যে কোন বিবাহে সন্তানবতী স্ত্রীলোকের ধন মৃত্যুর পর তার কন্যারা পাবে। কন্যা বলতে এক্ষেত্রে কন্যার কন্যা বা নাতনীকেও ধরতে হবে। বিবাহিতা ও অবিবাহিতা কন্যার মধ্যে অবিবাহিতা কন্যা ধন পাবে।

শুল্ক বা কন্যাপণরূপে প্রাপ্ত স্ত্রীধনের উত্তরাধিকার
১. কন্যারা মাতৃধনের সমান ভাগ পাবে।
২. কন্যা না থাকলে (মারা গেলে) কন্যার কন্যারা  মায়ের ভাগ অনুসারে মাতামহীর ধন পাবে।
৩. কন্যা ও কন্যার কন্যা (নাতনী) উভয়েই বর্তমান থাকলে নাতনীকেও কিছু অংশ দিতে হবে।
৪. নাতনী না থাকলে নাতিরা সেই ধন পাবে।
মনু বলেছেন—মায়ের মৃত্যুর পর পুত্রকন্যা সকলেই তার সম্পত্তির ভাগ পাবে।
৫. নিঃসন্তান হীন জাতির স্ত্রীর সম্পত্তি উচ্চ জাতির স্ত্রীর কন্যারা পাবে। কন্যা না থাকলে পুত্ররা পাবে।

মৃত বাগ্‌দত্তা কন্যার ধন—এই বিষয়ে যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন—
‘দত্ত্বা কন্যাং হরন্‌ দণ্ড্যো ব্যয়ং দদ্যাচ্চ সোদয়ম্‌।
মৃতায়াং দত্তমাদদ্যাত্‌ পরিশোধ্যোভয়ব্যয়ম্‌।।‘
--বিয়ের আগে বাগ্‌দত্তা মারা গেলে বর যে ধন পণ হিসাবে দিয়েছে, তা উভয় পক্ষে যে খরচ হয়েছে তা মিটিয়ে দিয়ে অবশিষ্ট অর্থ বরকে ফেরত দিতে হবে। কন্যাকে মাতামহ প্রভৃতিরা যে অলংকার দিয়েছেন সেগুলি কন্যার সহোদর ভাইয়েরা পাবে।

স্ত্রীধনের ব্যবহারবিধি-- এই বিষয়ে যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন—
‘দুর্ভিক্ষে ধর্মকার্যে চ ব্যাধৌ সম্প্রতিরোধকে।
গৃহীতং স্ত্রীধনং ভর্তা ন স্ত্রীয়ৈ দাতুমর্হতি।।‘
--স্ত্রীর জীবিত অবস্থায় স্বামী যদি দুর্ভিক্ষের সময় কুটুম্বপোষণের জন্য, অবশ্য কর্তব্য-কর্মের জন্য, রোগের চিকিৎসার জন্য, কারাবাস প্রভৃতি নিরোধের জন্য স্ত্রীধন গ্রহণ করে, তাহলে তা ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে না।

দেয় স্ত্রীধন-- এই বিষয়ে যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন—
‘অধিবিন্নস্ত্রিয়ৈ দদ্যাদাধিবেদনিকং সমম্‌।
ন দত্তং স্ত্রীধনং যস্যৈ দত্তে ত্বর্ধং  প্রকল্পয়েত্‌।।‘
--দ্বিতীয় বিবাহের সময় পূর্বের স্ত্রীকে (যদি বিবাহের সময় ধন না দিয়ে থাকে) দ্বিতীয় বিবাহে যত অর্থ খরচ হবে, তার সম পরিমাণ ধন দেবে। পূর্বে ধন দেওয়া থাকলে দ্বিতীয় বিবাহের অর্ধেক ধন দিতে হবে।


---------




৪. কো নাম দায়ঃ? দায়ভাগ-বিষয়ে যাজ্ঞবল্ক্য-কথিতানি বিধিবিধানানি সম্যগ্‌ আলোচয়ত।
উত্তরম্‌-- মহর্ষি যাজ্ঞবল্ক্য-কথিত কুড়িটি বিবাদপদের মধ্যে দায়ভাগ অন্যতম। আচার্য বিজ্ঞানেশ্বর ‘দায়’ সম্বন্ধে বলেছেন—‘তত্র দায়-শব্দেন যদ্ধনং স্বামিসম্বন্ধাদেব নিমিত্তাদ্‌ অন্যস্য স্বং ভবতি তদুচ্যতে।‘
অর্থাৎ একটি বিশিষ্ট ধন যাতে ধনস্বামীর সঙ্গে সম্বন্ধবশতঃ অন্য কোন ব্যক্তির স্বত্ব উৎপন্ন হয়, তাকে বলে দায়। আচার্য নারদের মতে—
‘বিভাগোঽর্থস্য পিত্র্যস্য তনয়ৈর্যত্র কল্প্যতে।
দায়ভাগ ইতি প্রোক্তং ব্যবহারপদং বুধৈঃ।।‘
এখানে ‘’দায়’ মানে পিতৃধন। পুত্ররা যখন এই ধন নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়, তখন তাকে দায়ভাগ বলে।

যাজ্ঞবল্ক্য-কথিত উত্তরাধিকার আইনের বিভিন্ন দিক—
পিতার ইচ্ছানুসারে ধনবিভাগ
১. পিতা জীবিত অবস্থায় ধনবিভাগ করলে জ্যেষ্ঠ পুত্রকে শ্রেষ্ঠ ভাগ বা সকলকে সমান ভাগ দিতে পারেন—
‘বিভাগং চেত্‌ পিতা কুর্যাদিচ্ছয়া বিভজেত্‌ সুতান্‌।
জ্যেষ্ঠং বা শ্রেষ্ঠভাগেন সর্বে বা স্যুঃ সমাংশিনঃ।।‘
২. উপার্জনক্ষম অনিচ্ছুক পুত্রকেও কিছু ধন দিয়ে পৃথক্‌ করে দিতে হবে—‘
শক্তস্যাহীনস্য কিঞ্চিদ্‌  দত্ত্বা পৃথক্‌ ক্রিয়া।'

পিতা-মাতার মৃত্যুর পর ধনবিভাগ-- পিতা-মাতার মৃত্যুর পর পুত্রগণ পিতার ধন ও ঋণের সমান অংশীদার হবে। মাতৃঋণ শোধ করার পর মাতৃধন কন্যারা পাবে। কন্যা না থাকলে পুত্র প্রভৃতি বংশধররা পাবে—
‘বিভজরেন্‌ সুতাঃ পিত্র্যোরূর্ধ্বং রিক্‌থমৃণং সমম্‌
মাতুর্দুহিতরং শেষমৃণাত্‌ তাভ্যঃ ঋতেঽন্বয়ঃ।।'

যৌথকারবারে ধনবিভাগ—এই বিষয়ে যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন—পিতামহের ভূমি, পানের বরজ, সুপারির বাগান, সোনা প্রভৃতি দ্রব্যের ক্ষেত্রে পিতা ও পুত্রের সমান অধিকার।
মাতার প্রাপ্য ভাগ—পিতার মৃত্যুর পর সম্পত্তি ভাগ হলে মাতা পুত্রদের সমান ভাগ পাবেন—
‘পিতুরূর্ধ্বং বিভজতাং মাতাপ্যংশং সমং হরেত্‌।'

বর্ণক্রম অনুসারে দায়ভাগ-- যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন—বর্ণ অনুসারে ধনবিভাগ হলে ব্রাহ্মণের ব্রাহ্মণী, ক্ষত্রিয়া, বৈশ্যা ও শূদ্রা স্ত্রীর পুত্রগণ যথাক্রমে ৪/১০, ৩/১০, ২/১০ এবং ১/১০ ভাগ পাবে।
ক্ষত্রিয়ের ক্ষত্রিয়া, বৈশ্যা ও শূদ্রা স্ত্রীর পুত্রগণ যথাক্রমে  ৩/৬, ২/৬ এবং ১/৬ ভাগ পাবে।
বৈশ্যের বৈশ্যা ও শূদ্রা স্ত্রীর পুত্রগণ যথাক্রমে  ২/৩ ও ১/৩ ভাগ পাবে।

বিভিন্ন প্রকার পুত্রের উত্তরাধিকার— যাজ্ঞবল্ক্যের মতে ঔরসপুত্র, পুত্রিকাপুত্র, ক্ষেত্রজপুত্র, গূঢ়জপুত্র, কানীনপুত্র, পৌনর্ভব, দত্তকপুত্র, ক্রীতপুত্র, কৃত্রিমপুত্র, স্বয়ংদত্তপুত্র, সহজোঢ়পুত্র ও অপবিদ্ধপুত্র –এই বারো ধরণের পুত্রের মধ্যে পূর্বেরটির অভাবে পরেরটি পিতার ধনের উত্তরাধিকারী হবে।

অপুত্রক ব্যক্তির ধনের উত্তরাধিকার-- যাজ্ঞবল্ক্যের মতে অপুত্রক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবেন তার পত্নী, তার অভাবে কন্যা, তার অভাবে পিতামাতা, তাদের অভাবে ভাইয়েরা, তাদের অভাবে ভাইয়ের পুত্ররা, তাদের অভাবে গোত্রজাত অন্য কেউ, তার অভাবে আত্মীয়গণ, তাদের অভাবে সৎশিষ্য, তার অভাবে সহাধ্যায়ী।

সংসৃষ্ট ধনের উত্তরাধিকার--  সংসৃষ্ট ধন মানে পরিবারের ধনবিভাগ হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় মিশ্রিত ধন। সেই ধনের অংশীদার হল সংসৃষ্টী।  যাজ্ঞবল্ক্যের মতে-- অপুত্রক সংসৃষ্টির মৃত্যু হলে অপর সংসৃষ্টী সেই ধন পাবে। সহোদর সংসৃষ্টীর ক্ষেত্রে পরে জাত পুত্র সেই ধন পাবে। বৈমাত্রেয় সংসৃষ্টী এবং সহোদর  অসংসৃষ্টী দুজনেই অপুত্রক ভাইয়ের ধন পাবে।

নপুংসকাদির ধনাধিকার—যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন—

‘ক্লীবোঽথ  পতিতস্তজ্জঃ পঙ্গুরুন্মত্তকো   জড়ঃ।
অন্ধো দুশ্চিকিতস্যরোগাদ্যাঃ ভর্ত্তব্যাঃ স্যুর্নিরংশকাঃ।।‘
--নপুংসক, পতিত, তার পুত্র, পঙ্গু, উন্মত্ত, জড়, দুরারোগ্য ব্যাধিযুক্ত ব্যক্তিদের শুধু ভরণপোষণ করতে  হবে, কিন্তু তারা সম্পত্তির ভাগ পাবে না।

স্ত্রীধনের উত্তরাধিকার-- এই বিষয়ে যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন—

অতীতায়ামপ্রজসি বান্ধবাস্তদবাপ্নুয়ুঃ।'

--সন্তানহীন কোন স্ত্রীলোক মারা গেলে তার ধন স্বামী প্রভৃতি আত্মীয়গণ পাবে। এরপর যাজ্ঞবল্ক্য বিধান দিয়েছেন—
‘অপ্রজঃ স্ত্রীধনং ভর্তুর্ব্রাহ্মণাদিষ্বপি।
 দুহিতৄণাং প্রসূতা চেত্‌ শেষেষু পিতৃগামি তত্‌।।‘
ব্রাহ্ম, দৈব, আর্ষ  ও প্রাজাপত্য –এই চার প্রকারে  বিবাহিতা নিঃসন্তান নারীর মৃত্যুর পর তার ধন স্বামী বা নিকট আত্মীয় পাবে। আসুর, গান্ধর্ব, রাক্ষস ও পৈশাচ বিবাহে স্ত্রীধন তার মাতা, তার অভাবে পিতা, তাদের অভাবে নিকট আত্মীয়রা পাবে।
যে কোন বিবাহে সন্তানবতী স্ত্রীলোকের ধন মৃত্যুর পর তার কন্যারা পাবে। কন্যা বলতে এক্ষেত্রে কন্যার কন্যা বা নাতনীকেও ধরতে হবে। বিবাহিতা ও অবিবাহিতা কন্যার মধ্যে অবিবাহিতা কন্যা ধন পাবে।
----------

Comments

Ads

Popular

১. প্রাচীনভারতীয় আয়ুর্বেদশাস্ত্র (Medical Science), ২. বাস্তুশাস্ত্রম্‌ (C-8, Unit II: Scientific and Technical Literature)

বহুল ব্যবহৃত কিছু ইংরেজি শব্দের সংস্কৃত প্রতিশব্দ—

3rd Sem, SEC-1, Usage of words in day-to-day life-1