ads

ad

2ND SEM (Hons in Sanskrit) Course Code : C-3, Unit I: Abhijñānaśakuntalam (Acts – 1 -5), Broad Questions-2 (3 questions)



2ND SEM (Hons in Sanskrit)
 Course Code : C-3,  Unit I: Abhijñānaśakuntalam  (Acts – 1 -5), Broad Questions-2 (3 questions)

४. क आसीद् विदूषकः? कालिदासस्य अभिज्ञानशकुन्तम् इति नाटके तस्य भूमिका सम्यग् आलोचयत।

উত্তরম্‌-- সংস্কৃত নাটকে বিদূষক একটি type চরিত্র প্রধানতঃ হাস্যরসের আধাররূপে চরিত্রটি কল্পিত হয়ে থাকে সংস্কৃত আলঙ্কারিকদের মতে বিদূষকের বৈশিষ্ট্য হল
কুসুমবসন্তাদ্যভিধঃ কর্মবপুর্বেষভাষাদ্যৈঃ
হাস্যকরঃ কলহরতির্বিদূষকঃ স্যাৎ স্বকর্মজ্ঞঃ’।।
অর্থাৎ ফুল বা ঋতুর নামে বিদূষকের নাম হবে। তিনি তার কাজকর্ম, আকৃতি, পোষাক-পরিচ্ছদ ও বাক্যের দ্বারা সকলের হাস্যরস উদ্রেক করবেন। কলহপ্রিয় হলেও নিজের কাজ সম্বন্ধে সচেতন হবেন। সংস্কৃত নাটকে বিদূষকের প্রধান পরিচয় রাজার নর্মসচিব হিসাবে। তবে নাট্যকারগণ প্রয়োজন অনুসারে বিদূষক চরিত্রের অনেক পরিবর্তন ঘটিয়েছেন।

অভিজ্ঞানশকুন্তলম্‌ নাটকে বিদূষকের ভূমিকা—

অভিজ্ঞানশকুন্তলম্‌ নাটকে বিদূষকের নাম মাধব্য। তিনি রাজা দুষ্যন্তের প্রিয়বন্ধু। তিনি জাতিতে ব্রাহ্মণ, হাস্যরসিক, ভোজনরসিক, হাতে তার দন্ডকাষ্ঠ, বিচিত্র তার বাচনভঙ্গী। এই নাটকের দ্বিতীয়, পঞ্চম ও ষষ্ঠ অঙ্কে তাকে দেখা যায়।

দ্বিতীয় অঙ্কে বিদূষক—

অভিজ্ঞানশকুন্তলম্‌ নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কে বিদূষক প্রধানতঃ হাস্যরস সৃজনের ভূমিকায় অবতীর্ণ। রাজা দুষ্যন্তের বয়স্য হওয়ার জন্য তার অনেক খেদ। মৃগয়ায় এসে অনিয়মিত আহার এবং মালিনীনদীর কষায় জল পান করতে তার কষ্ট। বন থেকে বনান্তরে ঘুরতে ঘুরতে তার সারা গায়ে ব্যথা। রাতেও ভাল ঘুম হয় না। তার উপর আবার সকাল বেলাতেই পাখিশিকারীদের চিৎকারে তার ঘুম ভাঙে। সাময়িক বিশ্রামলাভের জন্য তিনি শরীর একটু বাঁকা করে দণ্ডকাষ্ঠ অবলম্বন করে দাঁড়িয়ে থাকেন।
বিদূষক লঘুস্বভাবের হলেও মূর্খ নন। লোকচরিত্র সম্বন্ধেও তিনি অভিজ্ঞ। দুষ্যন্ত শকুন্তলার ব্যাপারে মনের কথা খুলে বললেও বিদূষক তাতে কোন উৎসাহ দেখান নি। বরং তিনি বলেছেন--  ‘ভবতু অস্মৈ অবসরং ন দাস্যামি’। এরপর তিনি পরিহাস করে বলেন--  ‘যথা কস্যাপি পিণ্ডখর্জুরৈঃ উদ্বেজিতস্য তিন্তিল্যাম্‌ অভিলাষো ভবেৎ, তথা স্ত্রীরত্নপরিভোগিনো ভবত ইয়মভ্যর্থনা’।

পঞ্চম অঙ্কে বিদূষক—

পঞ্চম অঙ্কে বিদূষকের ভূমিকা সামান্য। হংসপদিকার গান যে শুধুমাত্র একটি গান নয়, এর অন্য তাৎপর্য আছে সে সম্বন্ধে বিদূষক দুষ্যন্তকে বলেছেন--  ‘কিং তাবদ্‌ গীতেরবগতঃ অক্ষরার্থঃ’? এরপর দুষ্যন্তের কথানুসারে উপযুক্ত নাগরিকবৃত্তির দ্বারা হংসপদিকার অভিমান শান্ত করার জন্য বিদূষক অন্তঃপুরে চলে যান।

ষষ্ঠ অঙ্কে বিদূষক—

ষষ্ঠ অঙ্কে বিদূষক অনুশোচনাগ্রস্ত দুষ্যন্তকে সান্ত্বনা দিয়ে সুস্থ রেখেছেনদুষ্যন্ত শকুন্তলার প্রত্যাখ্যান-জনিত কারণে এতটাই কাতর ছিলেন যে, তিনি সমস্ত রাজকার্য পরিত্যাগ করেছিলেন। দুষ্যন্ত ভেবেছিলেন—শকুন্তলার সঙ্গে তাঁর কোনদিন মিলন হবে না। বিদূষক তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছেন--  ‘অনুপপন্নং ত্বয়ি। কদাপি সৎপুরুষাঃ শোকবাস্তব্যাঃ ন ভবন্তি’। বিদূষক আরো বলেছেন--  ‘ন খলু মাতাপিতরৌ ভর্তৃবিয়োগদুঃখিতাং দুহিতরং চিরং দ্রষ্টুং পারয়তঃ’। এখানে বিদূষকের সাংসারিক জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়।

নাটকীয় কাহিনীর বিকাশে বিদূষকের ভূমিকা—

অভিজ্ঞানশকুন্তলম্‌ নাটকে বিদূষকের প্রত্যক্ষ ভূমিকার চেয়ে পরোক্ষ ভূমিকাই বেশী। দ্বিতীয় অঙ্কে মহর্ষি কণ্বের আশ্রমে অবস্থানকালে দুষ্যন্ত বিদূষকের কাছে শকুন্তলা সম্বন্ধে তাঁর মনের কথা বলেছিলেন। রাজপ্রাসাদ থেকে রাজমাতার আদেশ নিয়ে করভক নামে দূত এলে বিদূষককে তাঁর প্রতিনিধি করে করভকের সঙ্গে পাঠিয়ে দেন। বিদূষক চঞ্চল প্রকৃতির, তাই দুষ্যন্ত আশঙ্কা করেছিলেন—তিনি অন্তঃপুরের রাণীদের কাছে শকুন্তলার সঙ্গে তাঁর প্রণয়ের ব্যাপার প্রকাশ করে দিতে পারেন। তাতে অনর্থ হতে পারে। সেইজন্য দুষ্যন্ত বিদূষকের হাত ধরে বলেছিলেন--  ‘পরিহাসবিজল্পিতং সখে! পরমার্থেন ন গৃহ্যতাং বচঃ’।
এর মাধ্যমে শকুন্তলার সঙ্গে দুষ্যন্তের ঘনিষ্ঠতা এবং বিবাহ-ব্যাপার প্রত্যক্ষ করা থেকে দূরে রাখা হল যাতে তিনি কোনভাবেই শকুন্তলা-ব্যাপারে জড়িত না থাকেন। সেইজন্যই কৌশলে তাকে রাজধানীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।  

পঞ্চম অঙ্কে হংসপদিকাকে শান্ত করার জন্য বিদূষককে অন্তঃপুরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাওয়ার সময় বিদূষক বলেন--  হংসপদিকার হাত থেকে দীর্ঘক্ষণ নিস্তার পাওয়া যাবে না--  ‘গৃহীতস্য তয়া পরকীয়ৈঃ হস্তৈঃ শিখণ্ডকে তাড্যমানস্য অপ্সরসঃ বীতরাগস্যেব নাস্তি ইদানীং মে মোক্ষঃ’।
এই ঘটনার মাধ্যমে বিদূষককে মূল দৃশ্যের বাইরে রাখা হয়েছে। একটু পরেই দেখা যাবে--  শার্ঙ্গরব, শারদ্বত ও গৌতমীর সঙ্গে শকুন্তলা দুষ্যন্তের সামনে উপস্থিত। দুর্বাসার অভিশাপে স্মৃতি নষ্ট হওয়ায় দুষ্যন্ত শকুন্তলাকে চিনতে না পেরে পরস্ত্রী বলে প্রত্যাখ্যান করেন। ঐ সময়ে বিদূষক উপস্থিত থাকলে তিনি রাজার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলার অভিযোগ তুলতে পারতেন। কারণ, শাপের দ্বারা দুষ্যন্তের স্মৃতি নষ্ট হলেও বিদূষকের স্মৃতি নষ্ট হওয়ার কথা নয়। তাতে অযথা জটিলতা বৃদ্ধি পেত। বিদূষককে দূরে সরিয়ে রেখে নাট্যকাহিনীকে জটিলতামুক্ত করা হয়েছে। এখানে বিদূষকের পরোক্ষ ভূমিকাই সমধিক।

ষষ্ঠ অঙ্কে রাজা দুষ্যন্তকে সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় বুদ্ধি স্থির রাখতে বিদূষক প্রত্যক্ষভাবে এবং রাজার ক্ষাত্রতেজ জাগ্রত করতে পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেছেন। বিদূষক শোকগ্রস্ত দুষ্যন্তকে আশ্বস্ত করে বলেছেন--  ‘যথাসময়ে শকুন্তলার সঙ্গে তাঁর মিলন হবে। বিদূষক রাজকর্মচারী হয়েও এই অংশে প্রকৃত বন্ধুর মতো কাজ করেছেন।    
দেবরাজ ইন্দ্রের রথের সারথি মাতলি দুষ্যন্তের ক্ষাত্রতেজ জাগ্রত করার জন্য বিদূষককে মাধ্যমরূপে ব্যবহার করেন। মাতলি অদৃশ্য হয়ে প্রাসাদের উপরিতলে নিয়ে গিয়ে বিদূষককে উৎপীড়িত করে দুষ্যন্তকে ক্ষত্রিয়োচিত তেজে উদ্দীপ্ত করেন। বিদূষক ছাড়া অন্য কেউ মাধ্যম হলে হয়তো দুষ্যন্তকে স্বমহিমায় পাওয়া যেত না।

উপসংহার-- বিদূষক নাটকে তিনটি দৃশ্যে অবতীর্ণ হলেও নাটকীয় ঘটনার বিকাশে তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয় প্রকার ভূমিকাই আছে। কালিদাস বিদূষকের দ্বারা নাটকের মুখ্য প্রয়োজন সাধনের উপযোগী অনেক কাজ করিয়ে নিয়েছেন। অন্যান্য নাটকের বিদূষকের তুলনায় অভিজ্ঞানশকুন্তলম্‌ নাটকের বিদূষক মাধব্য একটু স্বতন্ত্র স্বভাবের। একটি type চরিত্রকে এইভাবে সর্বজনগ্রাহ্য করার মধ্যে মহাকবি কালিদাসের অনন্যসাধারণ প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায়।

------


५. कालिदासस्य अभिज्ञानशकुन्तम् इति नाटके दुर्वाससः शापवृत्तान्तस्य नाटकीय-तात्पर्यम् आलोचयत।

উত্তরম্‌--  অপারে কাব্যসংসারে কবিরেব প্রজাপতিঃ
              যথাস্মৈ রোচতে বিশ্বং তথেদং পরিবর্ততে’।।
কবি প্রজাপতি কালিদাস মহাভারতের আদিপর্ব থেকে অভিজ্ঞানশকুন্তলম্‌ নাটকের আখ্যানভাগ গ্রহণ করলেও অপূর্ব নাট্যকৌশলের দ্বারা নাট্যামোদীদের তৃপ্তি বিধান করেছেন দুর্বাসার সাপ তাঁর নাট্যকৌশলের মধ্যে প্রধান

অভিজ্ঞানশকুন্তলম্‌ নাটক দুর্বাসার অভিশাপের দ্বারাই সমুজ্জ্বল এই নাটকের চতুর্থ অঙ্কে এই শাপবৃত্তান্ত সঙ্ঘটিত হয়েছে মহর্ষি কণ্ব আশ্রমে অনুপস্থিত ঐ সময়ে শকুন্তলা আশ্রমের ভারপ্রাপ্তা  অনসূয়া ও প্রিয়ংবদা বাগানে ফুল তুলছিল শকুন্তলাও স্বামিগত চিন্তায় মগ্ন ছিলেন সেই সময়ে সুলভকোপ মহর্ষি দুর্বাসা অতিথিরূপে তাঁর আগমনবার্তা ঘোষণা করেন  অয়মহং ভোঃ অনবধানতাবশতঃ  শকুন্তলা তা শুনতে পান নি এতে ক্রোধোদ্দীপ্ত দুর্বাসা নিজেকে অপমানিত মনে করে শকুন্তলাকে অভিশাপ দেন
বিচিন্তয়ন্তী যমনন্যমানসা
তপোধনং বেৎসি ন মামুপস্থিতম্‌।
স্মরিষ্যতি ত্বাং ন স বোধিতোঽপি সন্‌
কথাং প্রমত্তঃ প্রথমং কৃতামিব।।

দুর্বাসার শাপের নাটকীয় তাৎপর্য—

দুর্বাসার শাপ মহাকবি কালিদাসের এক অপূর্ব নাট্যকৌশল। এর নাটকীয় তাৎপর্য অপরিসীম।
প্রথমতঃ, দুর্বাসার শাপে কালিদাস দুষ্যন্তকে এক হৃদয়বান্‌, সচ্চরিত্র, প্রেমিক, স্বামী তথা মহান্‌ রাজারূপে চিত্রিত করেছেন। মহাভারতে রাজা দুষ্যন্ত ছিলেন একজন শঠ, প্রবঞ্চক, লোকলজ্জার ভয়ে ভীত, সঙ্কুচিত, কিছুটা শিথিল চরিত্রের রাজা। তিনি শকুন্তলার সঙ্গে তাঁর গান্ধর্ববিবাহ প্রথমে অস্বীকার করেছিলেন। তারপর  দৈববাণীতৈ সবকিছু প্রকাশ হয়ে পড়লে তিনি তা স্বীকার করেন এবং শকুন্তলাকে ধর্মপত্নীরূপে গ্রহণ করেন। এইরকম কাপুরুষতা নায়কচরিত্রকে কলুষিত করে। কালিদাস দুর্বাসার শাপের মাধ্যমে দুষ্যন্তকে সেই অকীর্তি থেকে রক্ষা করেছেন। শাপের প্রভাবে শকুন্তলা-বিষয়ক দুষ্যন্তের স্মৃতি নষ্ট হয়ে যায়। তাই শকুন্তলা তাঁর সামনে উপস্থিত হলেও তিনি তাঁকে চিনতে পারেন নি। তারপর নিজের নামাঙ্কিত অঙ্গুরীয়ক ফিরে পেয়ে সমস্ত পূর্ববৃত্তান্ত স্মরণ করতে পারেন। স্বকৃত অপরাধের জন্য পশ্চাত্তাপে দগ্ধ হয়ে তিনি এক নতুন মানুষ হয়ে ওঠেন। তাঁর অভ্যস্ত নাগরিকবৃত্তি ধ্বংস হয়ে প্রবল হয়ে ওঠে তাঁর স্বামিসত্তা। এর ফলস্বরূপ আমরা দেখতে পাই—সপ্তম অঙ্কে মহর্ষি মারীচের আশ্রমে শকুন্তলাকে দেখেই তিনি তাঁকে চিনতে পেরে কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চান এবং সর্বান্তঃকরণে পুত্রসহ শকুন্তলাকে গ্রহণ করেন। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বলেছেন--  ‘কালিদাস দুর্বাসার শাপ আনিয়া ঐ মহাপুরুষকে রাজার মতো রাজা, এমন কি দেবতা করিয়া তুলিয়াছেন’।

দ্বিতীয়তঃ, দুর্বাসার শাপের দ্বারা অপর আর একটি জীবনসত্য ধ্বনিত হয়েছে, তা হল--  মিথ্যাকথার ফল কখনও সুখদায়ক হয় না। মিথ্যাচারীকে তাঁর কৃতকর্মের জন্য শাস্তি পেতেই হয়। দ্বিতীয় অঙ্কে দুষ্যন্ত শকুন্তলার সঙ্গে তাঁর প্রণয়ব্যাপারে বিদূষকের কাছে মিথ্যা কথা বলেছিলেন-- ‘পরিহাসবিজল্পিতং সখে! পরমার্থেন ন গৃহ্যতাং বচঃ’। দুষ্যন্ত যদি এইরকম না বলতেন, তাহলে বিদূষক হয়তো কণ্বশিষ্যদের হস্তিনাপুরে আগমনের পূর্বেই মহর্ষি কণ্বের আশ্রমে সঙ্ঘটিত বৃত্তান্ত তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিতে পারতেন। তাতে দুষ্যন্তের পক্ষে শকুন্তলাকে স্মরণ করা অস্বাভাবিক হত না। মিথ্যাভাষণের ফলস্বরূপ সুদীর্ঘকাল ধর্মপত্নী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তাঁকে মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে।

তৃতীয়তঃ, দুর্বাসার শাপের দ্বারা একটি গভীর জীবনসত্য ধ্বনিত হয়েছে। সকল মানুষেরই অবশ্যপালনীয় কিছু সামাজিক কর্তব্য থাকে। জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে যদি কেউ মোহাচ্ছন্ন হয়ে তা বিস্মৃত হয়, তাহলে তার ফলভোগ অবশ্যই তাকে করতে হয়। শকুন্তলা আশ্রমধর্মে নিযুক্ত ছিলেন। প্রাচীন ভারতবর্ষে অতিথিসেবা পরম কর্তব্য বলে বিবেচিত হত। মহর্ষি দুর্বাসা তাঁর আগমনবার্তা ঘোষণা করা সত্ত্বেও শকুন্তলা স্বমিচিন্তায় মগ্ন থাকার ফলে তাঁকে আপ্যায়ন করতে ভুলে গেলেন। তাই শাস্তিস্বরূপ তাঁর উপর অভিশাপ বর্ষিত হল। তিনি তাঁর ধার্মিক  স্বামীর দ্বারা প্রত্যাখ্যাতা হলেন। তারপর শুরু হল তাঁর সুদীর্ঘকালব্যাপী তপঃক্লিষ্ট বিরহের জীবন। শাপের অবসান পর্যন্ত তাঁকে অপেক্ষা করতে হয় প্রিয়মিলনের জন্য।

নাটকীয় বস্তুবিন্যাসে দুর্বাসার শাপের তাৎপর্য—
নাট্যবস্তুবিন্যাসেও এই শাপবৃত্তান্তের অনেক তাৎপর্য আছে। দুর্বাসার শাপ সন্নিবিষ্ট না হলে পঞ্চম অঙ্কেই নাটকটি সমাপ্ত হয়ে যেত। তাতে মহাভারতের মতো এক অবাঞ্ছিত পরিণতি হত, অথবা শকুন্তলার প্রত্যাখ্যানে নাটক সমাপ্ত হত। দুর্বাসার শাপ সেই সম্ভাবনা দূর করে নাটকে গতিসঞ্চার করেছে। শাপের প্রভাবে দুষ্যন্ত সবকিছু ভুলে শকুন্তলাকে পরস্ত্রী বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর প্রত্যাখ্যানে পঞ্চম অঙ্কে যে নাট্যদ্বন্দ্ব সৃষ্ট হয়েছে তা অত্যন্ত মনোহর। দুষ্যন্তের চরিত্রও এই অংশে অনেক আকর্ষণীয় হয়েছে। সমগ্র ষষ্ঠ অঙ্কে অনুশোচনার মাধ্যমে দুষ্যন্তের অন্তরের পাপ বিনষ্ট হয়েছে। এইভাবে শকুন্তলাকে গ্রহণের জন্য তাঁর মানসিক প্রস্তুতি বিধান করা হয়েছে। তা না হলে সপ্তম অঙ্কে তাঁদের পুনর্মিলন স্বাভাবিক হত না।

দীর্ঘবিরহে রাজা দুষ্যন্ত এবং শকুন্তলার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। দুষ্যন্তের মনে ধর্মপত্নীর আবশ্যকতার বোধ জন্মেছে। সেইজন্যই মহর্ষি মারীচের আশ্রমে পুত্র সর্বদমনকে গ্রহণ করে দুষ্যন্ত বলেছেন--  ‘ভগবন্‌, অত্র কহলু মা বংশপ্রতিষ্ঠা’। শকুন্তলাও বিরহতাপে সংসারবিষয়ে অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন। তাই যা তাঁর জীবনের সমস্ত অনর্থের কারণস্বরূপ সেই  হারানো অঙ্গুরীয়ককে তিনি আর বিশ্বাস করতে চান নি--  ‘ন অস্য বিশ্বসিমি’। নায়ক-নায়িকার এই নবতর বোধ দুর্বাসার শাপের দ্বারাই সম্ভব হয়েছে।

উপসংহার-- অভিজ্ঞানশকুন্তলম্‌ নাটকে মহাকবি কালিদাসের উদ্দেশ্য হল—দেহগত প্রেমকে দেহের সীমা অতিক্রম করে এক মঙ্গলময় সৌন্দর্যলোকে উত্তীর্ণ করে দেওয়া। প্রথম তিনটি অঙ্কে কবি দুষ্যন্ত-শকুন্তলার প্রেমের যে রূপ অঙ্কিত করেছেন তাতে কোন কিছুই গোপন ছিল না। দুর্বাসার শাপের পর দু’জনের মধ্যেই এই বোধ জাগ্রত হয়েছে যে, বিবাহ কেবলমাত্র ইন্দ্রিয়  পরিতৃপ্তির জন্য নয়, এর মধ্যে সামাজিক কল্যাণ নিহিত আছে। সপ্তম অঙ্কে পুত্র-সহ শকুন্তলার সঙ্গে দুষ্যন্তের পুনর্মিলনে কবি এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন। এখানে পূর্বমিলনের কামকোলাহল নেই, আছে কেবল মিলনের পরিপূর্ণ আনান্দ, সামাজিক কল্যাণ এবং অক্ষয় সৌন্দর্য। এইভাবে সত্য, শিব ও সুন্দরের প্রতিষ্ঠা দুর্বাসার শাপের প্রভাবেই সম্ভব হয়েছে।

----


६. सोदाहणम् आलोच्यताम्-- ʻउपमा कालिदासस्यʼ।
উত্তরম্-- সংস্কৃত কাব্যতত্ত্বে সাদৃশ্যমূলক অলঙ্কারগুলির মধ্যে উপমা প্রধান আলঙ্কারিকগণ বিভিন্ন ভাবে উপমার লক্ষণ করেছেন। আচার্য বিশ্বনাথ বলেছেন—
‘সাম্যং বাচ্যমবৈধর্ম্যং বাক্যৈক্য উপমা দ্বয়োঃ’। অনেক কবি উপমাপ্রয়োগে তাঁদের কাব্যকে অলঙ্কৃত করেছেন। কিন্তু মহাকবি কালিদাস সকলের অগ্রণী। তাঁর প্রযুক্ত উপমাগুলি সহৃদয়গণের দ্বারা সমাদৃত হয়েছে। মাঘের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে জনৈক সমালোচক বলেছেন—
‘উপমা কালিদাসসস্য ভারবের্থগৌরবম্‌।
নৈষধে পদলালিত্যং মাঘে সন্তি ত্রয়ো গুণাঃ’।।
এখানে উপমাপ্রয়োগে কালিদাসের প্রাধান্য স্বীকৃত হয়েছে।

কালিদাসের রচনায় উপমাপ্রয়োগ—
অভিজ্ঞানশকুন্তলম্‌ নাটকে উপমাপ্রয়োগ—
প্রথম অঙ্কে দুষ্যন্তের সৈন্যদের অশ্বখুরের আঘাতে উত্থিত ধূলিরাশি ঋষিদের জলসিক্ত বল্কলে লগ্ন হয়ে অরুণবর্ণ ধারণ করেছিল। কবি সেই ধূলিরাশিকে শলভের সঙ্গে তুলনা করেছেন—
‘তুরগখুরহতস্তথাহি রেণুবিটপপরিষক্তঃ জলার্দ্রবল্কলেষু।
পততি পরিণতারুণপ্রকাশঃ শলভসমূহ ইবাশ্রমদ্রুমেষু’।। (১/২৯)

প্রথম অঙ্কের আর একটি শ্লোক—
‘গচ্ছতি পুরঃ শরীরং ধাবতি পশ্চাদসংস্থিতং চেতঃ।
চীনাংশুকমিব কেতোঃ প্রতিবাতং নীয়মানস্য’।। (১/৩১)
এই শ্লোকে দুষ্যন্তের অস্থির চিত্তকে পতাকার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে এবং তাঁর  শরীরকে পতাকাদণ্ডের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। শকুন্তলাকে আবার দেখার জন্য দুষ্যন্তের ব্যাকুলতা এখানে সুচারুরূপে বিবৃত হয়েছে।

দ্বিতীয় অঙ্কে শান্ত সমাহিত ঋষিদের তেজকে সূর্যকান্ত মণির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে—
‘শমপ্রধানেষু তপোধনেষু গূঢং হি দাহাত্মকমস্তি তেজঃ।
স্পর্শানুকূলা ইব সূর্যকান্তাস্তদন্যতেজোঽভিভবাদ্‌ বমন্তি’।।(২/৭)

এই অঙ্কের অপর একটি শ্লোকে বলা হয়েছে—
‘সুরযুবতিসম্ভবং কিল মুনেরপত্যং তদুজ্ঝিতাধিগতম্‌।
অর্কস্যোপরি চ্যুতমিব নবমল্লিকাকুসুমম্‌’।। (২/৮)
এখানে মাতা-পিতার দ্বারা পরিত্যক্তা শকুন্তলাকে আম্রবৃক্ষের উপরে পতিত নবমল্লিকা কুসুমের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।  

দ্বিতীয় অঙ্কের আর একটি শ্লোকে বলা হয়েছে—
‘কৃত্যয়োর্ভিন্নদেশত্বাদ্‌ দ্বৈধীভবতি মে মনঃ।
পুরঃ প্রতিহতং শৈলে স্রোতঃ স্রোতোবহো যথা’।। (২/১৭)
ঋষিদের যজ্ঞবিঘ্ন দূর করা এবং রাজমাতার ব্রত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া--–এই দুটি কর্তব্যের মধ্যে পড়ে দুষ্যন্তের মনের দ্বিধাবিভক্ত মনের অবস্থা সুষ্ঠু উপমাপ্রয়োগে বিবৃত হয়েছে।
পঞ্চম অঙ্কে শার্ঙ্গরব শমপ্রধান তপোবন থেকে এসে কোলাহমুখর রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করে বলেছেন-- ‘জনাকীর্ণং মন্যে হুতবহপরীতং গৃহমিব’।

শারদ্বত বলেছেন-- ‘অভ্যক্তমিব স্নাতঃ শুচিরশুচিমিব প্রবুদ্ধ ইব সুপ্তম্‌।
                        বদ্ধমিব স্বৈরগতির্জনমিহ সুখসঙ্গিনমবৈমি’।।
মলিন বেশধারী ঋষিকুমার এবং বৃদ্ধা তাপসী গৌতমীর মধ্যবর্তী অবগুণ্ঠনবতী শকুন্তলাকে দেখে দুষ্যন্ত বলেছেন--  ‘মধ্যে তপোধনানাং কিসলয়মিব পাণ্ডুপত্রাণাম্‌’।
শকুন্তলার রূপে মুগ্ধ দুষ্যন্ত স্মৃতিভ্রষ্টজনিত কারণে তাঁকে ধর্মত্নীরূপে গ্রহণ করতে চান নি, আবার তাঁকে ত্যাগও করতে চান নি। দুষ্যন্তের এই দোদুল্যমান মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে এই শ্লোকাংশে--  ‘ভ্রমর ইব বিভাতে কুন্দমন্তস্তুষারং
 ন চ খলু পরিভোক্তুং নৈব শক্নোমি মোক্তুম্‌’।
শকুন্তলার স্মৃতি কিভাবে তাঁকে পীড়িত করেছে সেই বিষয়ে দুষ্যন্ত বলেছেন—
‘ময়ি ক্রূরে যত্তৎ সবিষমিব দহতি মাম্‌’।

কালিদাসের অন্যান্য কাব্যেও অনেক রসগ্রাহী উপমাপ্রয়োগ দেখা যায়।
যেমন-- মেঘদূতে যক্ষবধূর বর্ণনায় বলা হয়েছে—
‘প্রাচীমূলে কলামাত্রশেষাং হিমাংশোঃ’,
‘শিশিরমথিতাং পদ্মিনীং বান্যরূপাম্‌’
‘সাভ্রেঽহ্নীব স্থলকমলিনীং ন প্রবুদ্ধাং ন সুপ্তাম্‌’ ইত্যাদি।

রঘুবংশের প্রথম সর্গে পার্বতী-মহেশ্বরের যুগল মূর্তিকে শব্দার্থের সম্পর্কের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে--  ‘বাগর্থাবিব সম্পৃক্তৌ বাগর্থপ্রতিপত্তয়ে।
 জগতঃ পিতরৌ বন্দে পার্বতীপরমেশ্বরৌ’।।

রঘুবংশের দ্বাদশ সর্গে অশোকবনে রাক্ষসী-পরিবৃতা সীতাকে বিষলতা-পরিবৃত মহৌষধির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে--  ‘জানকী বিষবল্লীভিঃ পরিতেব মহৌষধিঃ’।
এইরকম আর অসংখ্য উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে।

উপসংহার-- কালিদাসের উপমাপ্রয়োগ অনেক রসমণ্ডিত। কবি কখনো কষ্টসাধ্য উপমাপ্রয়োগ করেন নি, বর্ণনীয় বিষয়ের রসের টানেই তা এসেছে। এটা অনস্বীকার্য যে, কালিদাস তাঁর প্রযুক্ত উপমার চমৎকারিত্ব সম্পাদনে আদিকবি বাল্মীকির দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত। কালিদাস-প্রযুক্ত অধিকাংশ উপমার ধারণা বাল্মীকির কাছ থেকে গৃহীত। কিন্তু কবি নব-নবোন্মেষশালিনী প্রতিভাবলে তাদের নবতর রূপ দান করেছেন। ফলে কবির উপমাগুলির একটা স্বতন্ত্র মাত্রা আছে। অতএব ‘উপমা কালিদাসস্য’ এই মূল্যায়ন যথার্থ।

-----

Comments

Ads

Popular

১. প্রাচীনভারতীয় আয়ুর্বেদশাস্ত্র (Medical Science), ২. বাস্তুশাস্ত্রম্‌ (C-8, Unit II: Scientific and Technical Literature)

বহুল ব্যবহৃত কিছু ইংরেজি শব্দের সংস্কৃত প্রতিশব্দ—

3rd Sem, SEC-1, Usage of words in day-to-day life-1